এসো খড়ে সুঁই খুঁজি

Custom Search
Showing posts with label মনোবিজ্ঞান. Show all posts
Showing posts with label মনোবিজ্ঞান. Show all posts

Wednesday, June 3, 2020

কোভিড-১৯ ও করোনাভাইরাস সার্স-কোভ-২ সংক্রান্ত বৈজ্ঞানিক তথ্যাবলি


১ 
আমরা জানি যে ধুমপায়ীরা কোভিড-১৯ রোগে আক্রান্ত হন সাধারণ জনসাধারণের তুলনায় বেশি সংখ্যক হারে। কারণ কী? অন্যদিকে, আমরা এই-ও জানি যে কোভিড-১৯ এর জন্য দায়ী করোনাভাইরাস সার্স-কোভ-২ মানবদেহের যেসব কোষে এসিই২ (ACE2) রিসেপ্টর আছে এমন কোষে এই রিসেপ্টরের মাধ্যমে প্রবেশ করে। নতুন এক গবেষণা [https://doi.org/10.1016/j.devcel.2020.05.012] মতে, ধুমপান ফুসফুসে এসিই২ প্রোটিনের মাত্রা বাড়িয়ে তোলে যা কোষের ভাইরাস দ্বারা সংক্রমণের ঝুঁকি বাড়িয়ে তোলে। ধুমপান ত্যাগ করলে এসিই২ রিসেপ্টরের মাত্রা (সংখ্যা) হ্রাস পায়। এই গবেষণা আলোকপাত করেছে কেনো অন্যান্য লোকজনের তুলনায় ধুমপায়ীরা বেশি সংখ্যক হারে কোভিড-১৯ -এ আক্রান্ত হন এবং মৃত্যুবরণ করেন।

Sunday, May 12, 2019

পাহাড় এবং অন্তর্মুখী মানুষেরা

তুমি পাহাড় ভালোবাসো খুব। আমি-ও। যেহেতু আমরা অন্তর্মুখী মানুষ-মানুষী।

Journal of Research in Personality নামক জার্নালে Personality and Geography: Introverts Prefer Mountains শিরোনামে অদ্ভুত একটি গবেষণার ফলাফল প্রকাশিত হয়েছে। গবেষণায় দেখা গেছে যে আমেরিকার যুক্ত্ররাষ্ট্রের যেসব স্টেইট পাহাড়ি সেইসব স্টেইটের মানুষজন যেসব স্টেইট সমতল সেইসব স্টেইটের মানুষের চেয়ে বেশি অন্তর্মুখী (introvert) হয়ে থাকে। ভূগোল এবং ব্যক্তিত্বের মধ্যকার এই সম্পর্কের কথা পড়ে অদ্ভুত লাগলো।

Sunday, March 10, 2019

অ্যান্টিবায়োটিকের অপব্যবহার, মানসিক স্বাস্থ্যহানি, এবং বিষণ্নতার রোগ ও অটিজমের ঝুঁকি বৃদ্ধি

অ্যান্টিবায়োটিকের অপব্যবহার, মানসিক স্বাস্থ্যহানি, এবং বিষণ্নতার রোগ অটিজমের ঝুঁকি বৃদ্ধি

               মনে করুন যে, আপনার ছোট ভাইবোন কিংবা সন্তানকে কোনো এক সংক্রমণের (infection) কারণে হাসপাতালে ভর্তি করালেন এবং সেখানার ব্যবহৃত অ্যান্টিবায়োটিকের ফলে, কিংবা মনে করুন যে অতিরিক্ত পাকনামি করে আপনার অ্যান্টিবায়োটিকের অপব্যবহারের (ডাক্তারের পরামর্শ অনুসরণ না করে) ফলে পরবর্তীতে মানসিক রোগ হওয়ার সম্ভাবনা বৃদ্ধি পেলো? শুনতে অদ্ভুত লাগে, তাই না?

Thursday, December 20, 2018

ভাইটামিন ডি'র অভাবে কি অটিজম ও স্কিৎসোফ্রেনিয়া হতে পারে?

স্কিৎসোফ্রেনিয়া (Schizophrenia) নামক মানসিক ব্যাধির উপসর্গ হচ্ছে বিভ্রান্তকর চিন্তা (যেমন, অনেকে আপনাকে আক্রমণ করার জন্য ষড়যন্ত্র করছে), বিভ্রান্তিতে ভোগা, দৃষ্টিভ্রম শ্রবণভ্রম (visual and auditory hallucinations; যেমন, শব্দ বা কণ্ঠ শোনা, যদিও বাস্তবে কেউ বলছে না বা শব্দ করছে না; কোনো কিছু দেখা, যদিও বাস্তবে কিছুই নেই), অলীক বিশ্বাস, বিভ্রম (Delusion), এবং বিভিন্ন চিন্তাগত বৈকল্য (cognitive impairment; যেমন, বুদ্ধিশুদ্ধি লোপ পাওয়া বা স্বাভাবিকের চেয়ে কম হওয়া) সাম্প্রতিক গবেষণা নির্দেশ করে যে স্কিৎসোফ্রেনিয়া আসলে একটি মানসিক ব্যাধি নয়, বরং ছয়টির মতো স্নায়ুবিক ( মানসিক) ব্যাধির ক্লাস্টার; একেক রোগীর বিকাশ, কারণ, বংশগতির সূত্র ইত্যাদির কারণে একেক রোগীর ক্ষেত্রে ভিন্ন ভিন্ন উপসর্গ দেখা দেয়। কিন্তু এই রোগের (রোগগুলোর) কারণ কী কী?

পূর্ববর্তী গবেষণায় দেখা গেছে যে শীতকাল এবং বসন্তকালে জন্মগ্রহণ করা এবং উচ্চ-অক্ষাংশের দেশে বসবাসকারীদের (যেমন ডেনমার্ক) ক্ষেত্রে স্কিৎসোফ্রেনিয়ার ঝুঁকি বেশি থাকে। গবেষকরা ধারণা করেছিলেন যে শীতের সময়কালে সূর্যালোকের অভাবের কারণে গর্ভবর্তী নারীদের ভাইটামিন ডি এর পরিমাণ কম হয়ে থাকে এবং যার ফলে গর্ভের সন্তানের ঝুঁকি বৃদ্ধি পায়; তাই গবেষকরা ভাইটামিন ডি এবং স্কিৎসোফ্রেনিয়ার মধ্যকার সম্পর্ক অনুসন্ধান করেন। একটি ব্যাপার উল্লেখযোগ্য যে গ্রীষ্মকালীন দেশ হলেই যে পর্যাপ্ত পরিমাণ ভাইটামিন ডি (সূর্যালোকের এক্সোপজারে) থাকবে এমন নয়, কারণ জীবনযাত্রার কারণে (যেমন- সারাদিন গৃহে বা অফিসে থাকা, ভেতরে থাকা) গর্ভবর্তী মায়েদের ভাইটামিন ডি স্বল্পতা ঘটতে পারে সূর্যালোক-সমৃদ্ধ দেশে-ও।

অট্রেলিয়ার কুইন্সল্যান্ড বিশ্ববিদ্যালয় (University of Queensland) ডেনমার্কের আরহাস বিশ্ববিদ্যালয়ের (Aarhus University) Darryl W. Eyles John J. McGrath নামক গবেষকদের নতুন এক গবেষণা মতে, নবজাতকদের যাদের জন্মের পরে ভাইটামিন ডি (vitamin D) এর স্বল্পতা রয়েছে তাদের পরবর্তী জীবনে স্কিৎসোফ্রেনিয়া হওয়ার ঝুঁকি থাকে; যেসব নবজাতকদের স্বাভাবিক পরিমাণের ভাইটামিন ডি আছে তাদের তুলনায় জন্মের সময়ে স্বল্পতায় ভোগা নবজাতকদের পরবর্তী জীবনে স্কিৎসোফ্রেনিয়া হওয়ার ঝুঁকি ৪৪% শতাংশ বেশি হয়ে থাকে! যদিও স্কিৎসোফ্রেনিয়ার অনেক বংশগতিগত এবং পরিবেশগত ঝুঁকি কারণ রয়েছে, গবেষকদের মতে ডেনমার্কের % কেইসের ক্ষেত্রে ভাইটামিন ডির স্বল্পতা দায়ী হয়ে থাকতে পারে। একই গবেষকদল ২০১৬ সালের আরেকটি গবেষণায় জন্মপূর্ব ভাইটামিন ডি স্বল্পতার সাথে শৈশবের অটিজমের বৈশিষ্ট্যগুলোর মধ্যকার সম্পর্ক খুঁজে পেয়েছিলেন।  

গবেষণার জন্য গবেষকরা ১৯৮১-২০০০ সালের মধ্যে জন্মগ্রহণ করা ২৬০২ জন ডেনিশ অংশগ্রহণকারীর রক্তে ভাইটামিন ডির পরিমাণ পরিমাপ করেছেন, যারা পরবর্তীতে স্কিৎসোফ্রেনিয়া ব্যাধিতে আক্রান্ত হয়েছেন। গবেষকরা ব্যাধি আক্রান্ত হন নি এমন আরেকটি দলের সাথে (লিঙ্গ এবং জন্মসাল মিলিয়ে) আক্রান্তদের উপাত্ত তুলনা করে দেখেছেন।


এই আবিষ্কারের ফলাফল জীবনের প্রাথমিক পর্যায়ে ভাইটামিন ডি স্বল্পতার চিকিৎসা করে স্কিৎসোফ্রেনিয়া প্রতিরোধে সহায়তা করতে পারে। সবচেয়ে বড় কথা, গবেষকদের মতে গর্ভকালীন সময়ে মায়েরা স্পিনা বাইফাইডা (spina bifida) প্রতিরোধে যেমন ফোলেইট (folate) গ্রহণ করেন তেমন স্কিৎসোফ্রেনিয়া প্রতিরোধে ভাইটামিন ডি গ্রহণের কথা ভেবে দেখতে পারেন এবং এই ব্যাপারে ডাক্তারের সাথে পরামর্শ করতে পারেন। কারণ, ব্যাধি প্রতিরোধ করা ব্যাধি চিকিৎসার চেয়ে অনেক সহজ।

তথ্যসূত্র
Eyles, D. W., Trzaskowski, M., Vinkhuyzen, A. A., Mattheisen, M., Meier, S., Gooch, H., ... & Jang, S. E. (2018). The association between neonatal vitamin D status and risk of schizophrenia. Scientific reports8.

Sunday, June 3, 2018

মাদকাসত্তি ও ক্রসফায়ার নিয়ে কিছু বক্তব্য


মাদকাসত্তি নিয়ে, বিশেষ করে এর মনোবিজ্ঞান এবং নিউরোবায়োলজি নিয়ে আমি কিছু কথা বলতে চাই এবং সেই প্রেক্ষিতে বলতে চাই যে মাদকাসত্তির জন্য একজনকে ক্রসফায়ারে দেয়া একটি চরম অমানবিক ও বর্বর ব্যাপার।

একেকজন একেক কারণে এবং ভাবে মাদকাসক্ত হয়, কিন্তু মস্তিষ্কে যে পরিবর্তন হয় তা মোটামুটি কয়েকটি ভাগে বিভক্ত। যেমন, কেউ বন্ধুদের পাল্লায় পড়ে চেখে দেখে, কেউ কৌতূহলের বশে পরখ করে দেখে, কেউ আত্মচিকিৎসার জন্য মাদকের দ্বারস্ত হয় (যেমন, অ্যালকোহল অ্যাবিউজ করে যারা তাদের একটি বড় অংশ বিষণ্নতা, উদ্বেগ-জনিত, প্যানিক ইত্যাদি মানসিক সমস্যায় ভুগে, এবং এইসব থেকে উত্তরণের জন্য অ্যালকোহল, মারিওয়ানা ইত্যাদি মাদক নেয় এবং ক্রমশ আসক্ত হয়ে পড়ে; চাকুরিহীন, বাবা-মা-প্রতিবেশি থেকে বঞ্চনা পাওয়া একটি যুবক কিংবা যুবতীর কথা চিন্তা করে দেখেন- সারা দুনিয়ার কোথাও সে শান্তি পায় না, কেউ শান্তি ও স্বস্তি দেয় না, শুধু মাদক সেবনে খানিকের জন্য পৃথিবীর যাবতীয় নেতিবাচক ব্যাপার দূরে সরিয়ে রাখা যায়), কেউ জন্মগতভাবে মাদকাসক্তির   ঝুঁকি নিয়ে জন্মায় (যেমন, গর্ভাবস্থায় যদি মা অ্যালকোহল, সিগারেট কিংবা কোকেইন জাতীয় মাদক সেবন  করে তবে বাচ্চার জিনগুলো এমনভাবে প্রকাশিত হয় যে বাচ্চা বংশগতিগতভাবে অতিরিক্ত ঝুঁকি নিয়ে জন্মায়) ইত্যাদি। যাহোক, যে যেকারণেই মাদক নেয় না কেনো প্রথম দিকে মাদক আনন্দানুভূতির সৃষ্টি করে, প্রশান্তি দেয়, উত্তেজনা সৃষ্টি করে ইত্যাদি। এইক্ষেত্রে মস্তিষ্কের ডোপামিনারজিক স্নায়ুব্যবস্থা (যেসব স্নায়ুকোষ ডোপামিনকে প্রধান নিউরোট্রান্সমিটার হিসেবে ব্যবহার করে) মূল ভূমিকা রাখে। ডোপামিন মানুষ ও প্রাণীর নানা আচরণকে নিয়ন্ত্রণ ও প্রভাবিত করে; যেমন, যৌনতা, শেখা, চলন, স্বভাব, মনোযোগ, মটিভেশন ইত্যাদি নানা ব্যাপারকে নিয়ন্ত্রণ ও প্রভাবিত করে। এইসব মূলত প্রাকৃতিক ব্যাপার। যেমন, যৌনতার কথা ধরেন- যৌনকাজে প্রাণী যৌনসুখ পায়, তাই সে এইকাজ বারবার করতে চায়, ফলে সেই প্রাণী তার জিন বিস্তারণের সুযোগ পায়। ভালো সুস্বাদু খাবার খেতে ভালো লাগে, কারণ এতে প্রাণী নিজেকে টিকিয়ে রাখতে ও শক্তি সঞ্চয় করতে পারে। এইসব সুখকর ও সারভাইবালের জন্য প্রয়োজনীয় আচরণকে বারবার করার পেছনে ভূমিকা রাখে ডোপামিন ব্যবস্থা। 

মাদক মস্তিষ্কের ডোপামিন ব্যবস্থাকে মূলত হাইজ্যাক করে! প্রাকৃতিক আচরণগুলোর জন্য যে ব্যবস্থা সৃষ্টি হয়েছে কোটি বছরের বিবর্তনে, সেই ব্যবস্থাকে হাইজ্যাক করে মাদক আসক্তির দিকে ধাবিয়ে নেয়। অনেকটা প্লেইন চালানো শিখে উঁচু ভবনে প্লেইন মেরে দেওয়া; প্লেইনের আবিষ্কার হয়েছে অন্যত্র আকাশপথে দ্রুত যাওয়ার জন্য, উঁচু ভবনে মারা জন্য নয়। ঠিক তেমনি মাদক সাময়িক আনন্দের জন্য ঠিক আছে, কিন্তু আসত্তির জন্য নয়। দীর্ঘমেয়াদি মাদক গ্রহণের ফলে এই সাময়িক আনন্দ গ্রহণের স্বভাব ক্রমশ আসক্তির দিকে ধাবিত হয়। 

মানুষের ইতিহাসে, অর্থাৎ পৃথিবীর যেকোনো সংস্কৃতি ও দেশের কথাই চিন্তা করে দেখেন না কেনো প্রতিটিতে একেক ধরণের মাদক দ্রব্য রয়েছে। অর্থাৎ, মানুষের ইতিহাস যতো দীর্ঘ এই মাদক গ্রহণের ইতিহাস ততো দীর্ঘ।  তবে বর্তমান সময়ের আগে অন্যান্য অনেক বিষয়ের মতন মাদক এতো সহজলভ্য ছিলো না। যেমন একটি নির্দিষ্ট সময়ে মদ তৈরি করা হতো বার্লি, আলু ইত্যাদি থেকে ঋতু ও পরিবেশ অনুসারে। কিন্তু এখনকার প্রযুক্তিতে মানুষ কৃত্রিমভাবে অনেক মদ ও মাদক তৈরি করতে পারে। এই প্রচুর লভ্যতা যে ব্যাপারটি সৃষ্টি করেছে তা হচ্ছে মাদককে কেন্দ্র করে কালোবাজার গড়ে উঠেছে। মাদকাসত্তির ইতিহাস একদিক থেকে কালোবাজারির ইতিহাস। এই ব্যাপারে পরে আবার আসছি।

কেনো দীর্ঘমেয়াদি মাদক গ্রহণের ফলে মাদক গ্রহণের আনন্দ আসত্তিতে পরিণত হয়? 
মস্তিষ্ক চায় সবসময় সাম্যাবস্থা বজায় রাখতে, যেকোনো জৈবিক ব্যবস্থা তাই চায়; এতে শক্তির খরচ নিয়ন্ত্রণে থাকে, কার্যকলাপ সুষ্ঠভাবে সম্পন্ন হয়। মাদকগ্রহণের ফলে ডোপামিন ও অন্যান্য স্নায়ুব্যবস্থা ঘন ঘন ফায়ার হতে থাকে, স্বাভাবিকের তুলনায় অতিরিক্ত নিউরোট্রান্সমিটার নিঃসৃত হয়, এই অতিরিক্ত ব্যয়ের জন্য জিনের প্রকাশ পরিবর্তন হয় মস্তিষ্কের স্নায়ুকোষগুলোর জিনে। ফলে ব্যাপারটা এই রকম যে মস্তিষ্কের নিয়ন্ত্রণ-ব্যবস্থা চায় সব নিয়ন্ত্রণে রাখতে, সাম্যাবস্থা বজায় রাখতে, অন্যদিকে রিওয়ার্ড ব্যবস্থা (reward system) চায় আনন্দদায়ক, সুখকর ব্যাপার ও আচরণে বারবার লিপ্ত হতে। নিয়ন্ত্রণ-ব্যবস্থা তার নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখার জন্য রিসেপ্টরের সংখ্যা কমিয়ে দেয় (রিসেপটর হচ্ছে স্নায়ুকোষের কোষঝিল্লীতে থাকা সংকেত-গ্রাহক অংশ), এমনকি স্নায়ুকোষের মৃত্যু ঘটায়; অন্যদিকে রিওয়ার্ড ব্যবস্থা মাদক ও মাদকের সাথে সংশ্লিষ্ট ব্যাপারগুলোর প্রতি অতিরিক্ত সেনসিটাইজ (sensitize) হয়ে যায়। দীর্ঘমেয়াদি মাদকের ফলে স্নায়ুকোষগুলোর জিনে এপিজেনেটিক পরিবর্তন সাধিত হয়, অর্থাৎ জিনে সরাসরি পরিবর্তন বা মিউটেশন না ঘটলে-ও জিনের অভিব্যক্তি বা প্রকাশ পরিবর্তিত হয়। জিনের সংকেত অনুসারে প্রোটিন তৈরি করা হয়, কিন্তু এপিজেনেটিক পরিবর্তন হলে দেখা যায় যে জিন অ্যাক্সেস করা কঠিন হয়ে পড়ে, কিংবা প্রোটিনের গঠন অন্যরকম হয়ে পড়ে। এবং মস্তিষ্কের এইসব পরিবর্তনের সাথে মাদকাসক্তি-সংশ্লিষ্ট আচরণের সম্পর্ক আছে। 

মাদকাসক্তের ক্ষেত্রে দুটো বিষয় গুরুত্বপূর্ণ, একটি হচ্ছে ক্রেইভিং (craving) এবং অন্যটি লাইকিং (liking)। শুনতে অস্বাভাবিক মনে হলে-ও একজন ব্যক্তি যখন মাদকে আসক্ত হয়ে পড়ে সে মাদককে আগের মতো "পছন্দ" বা লাইকিং করে না! কিন্তু সেই একই মাদকের জন্য তার ক্রেইভিং বা  "ক্ষুধা" বেড়ে যায়। এই দুটো ব্যাপারের ক্ষেত্রে মস্তিষ্কের দুটো স্নায়ুবর্তনী বা নিউরাল সার্কিট কাজ করে, যাদের কিছু কিছু অংশ একই, আবার কিছু কিছু অংশ পুরোপুরি অন্যরকম। আসক্ত ব্যক্তি মাদককে পছন্দ না করলে-ও তার ক্রেইভিং বেশি হওয়ার কারণ মস্তিষ্কের স্নায়ুকাঠামো, কার্যাবলি এবং জিনগত পরিবর্তনের জন্য। অর্থাৎ, ব্যক্তির নিজের উপর নিজের নিয়ন্ত্রণ থাকে না, তার মস্তিষ্ক তার মস্তিষ্কের নিয়ন্ত্রণে থাকে না! যে ব্যক্তির নিজের উপর নিজের নিয়ন্ত্রণ নেই তাকে আপনি কেনো পুরোপুরি দোষারোপ করে ক্রসফায়ারে দেবেন? মাদকাসক্তি এক ধরণের মানসিক বৈকল্য, যার পেছনে সামাজিক, পারিবারিক, বংশগতিক, স্নায়ুবিক কারণ আছে। অন্যান্য শারীরিক রোগ ও মানসিক সমস্যার জন্য যেমন চিকিৎসার প্রয়োজন  তেমনি মাদকাসক্তিতে আক্রান্তদের জন্য (আমার ভাষা খেয়াল করুন, আমি বলেছি আক্রান্ত) প্রয়োজন চিকিৎসা, প্রয়োজন সহযোগিতা ও সহমর্মিতা। একজন ব্যক্তি ক্যান্সারে কিংবা অন্য কোনো জটিল রোগে আক্রান্ত হয়ে পঙ্গু হয়ে গেলে তাকে ক্রসফায়ারে দিলে যেমন অমানবিক ও বর্বরতার পরিচয় দেয়া হবে তেমনি মাদকাসক্তিতে আক্রান্তকে ক্রসফায়ারে দিলে সেটি হত্যা এবং এই হত্যার দায় রাষ্ট্রের এবং রাষ্ট্রের নেতা-নেত্রী বুড়োখোকা-খুকিদের। 

৪ 
১৯৬০ এর দশকের দিকে আমেরিকার যুক্তরাষ্ট্র মাদকের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা দেয়, কিন্তু এই "যুদ্ধ" ক্রমশ রাজনৈতিক রূপ নেয়- অন্যান্য দেশের উপর মাদকের উসিলায় আধিপত্য বিস্তারের উপায় হিসেবে, সংখ্যালঘুদের (যেমন- আফ্রিকান আমেরিকান, হিস্পানিক সম্প্রদায়সমূহ) প্রতি বৈষম্যের কারণ হয়ে যায় (যেমন- যদি কোনো শ্বেতাঙ্গকে কোকেইনসহ ধরা হয় তবে তার শাস্তি যা হয় তারচেয়ে বেশি শাস্তি হয় একজন আফ্রিকান আমেরিকানকে সাধারণ গাঞ্জা নিয়ে ধরা হলে)। বাঙলাদেশে বর্তমানে এই মাদকাসক্তির বিরুদ্ধে অভিযান রাজনৈতিক রূপ নিচ্ছে (যেমন- বিরোধীদল কিংবা বিরোধীমতের লোকদেরকে ফাঁসিয়ে দেয়া ও হত্যা করা)। 

মাদকের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করার সময় বলা হয়েছিলো যে যারা মাদক গ্রহণ করে তারা মানসিকভাবে দুর্বল এবং তাদের নৈতিকতার ঠিক নেই। কিন্তু পরবর্তী হাজার হাজার গবেষণায় দেখা গেছে যে যারা মাদকে আসক্ত হয় তাদের নৈতিকতা কোনো অংশে কম না এবং তারা মানসিকভাবে দুর্বল-ও নয়, তারা মূলত ভুল শিক্ষা (আনন্দলাভের উপকরণকে স্থায়ীভাবে মাদক হিসেবে গ্রহণ করা) ও পরিস্থিতির শিকার। তাদের জন্য তাই প্রয়োজন মনোশিক্ষা ও মনোচিকিৎসা, ক্রসফায়ার নয়।

ক্রসফায়ার ও মৃত্যুদণ্ড চূড়ান্তবিচারে একটি দেশের বিচারব্যবস্থার ভঙ্গুরচিত্র ও সামরিকশাসন ও কৃতিত্বপরায়ণ মানসিকতা তুলে ধরে। অপরাধের শাস্তি যখন মৃতুদণ্ড ও ক্রসফায়ার হয় তখন গাছের পরিচর্যার বদলে মূল কেটে উপড়ে ফেলার মতো হয়, এটি অপরাধের কারণ সনাক্ত করা ও নাগরিককে সুপথে আনার ক্ষেত্রে কোনো কার্যকর ভূমিকা রাখে না। 

আপনি আমার কথা মানবেন কেনো? কেনো মাদকাসক্তদের ক্রসফায়ারে না দিয়ে মানসিক চিকিৎসা করাবেন? চিকিৎসায় কাজ হয়? হয়। শুধুমাত্র, পারিবারিক ও সামাজিক সাহায্য-ও অনেক কাজে দেয়। কোকেইন আসক্ত ও যারা নিয়মিত কোকেইন ব্যবহার করে তাদের উপর চালিত একটি গবেষণার কথা বলি। একটা নির্দিষ্ট অল্প ডোজে নিয়মিত কোকেইন নিলে-ও আসক্তি ঘটে না বা কম ঘটে, কিন্তু ডোজ উনিশবিশ করলে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি বাড়ে (মস্তিষ্কের স্নায়ুকোষের সাম্যাবস্থার কথা চিন্তা করেন)। কিন্তু একটা বিষয় হচ্ছে যে এইসব আক্রান্তদের যাদের একটি ভালো পরিবার আছে, যাদের সামাজিক ও ব্যক্তিগত সহযোগিতা, আশ্রয়ের জায়গা আছে তারা অন্যান্যদের তুলনায় কম আসক্ত হয়। অর্থাৎ, বিভিন্ন দায়বন্ধতা, সাহায্য মানুষকে মাদক থেকে ফেরাতে পারে।
মাদকাসক্তদের জন্য অন্যতম আরেকটি চিকিৎসা হচ্ছে ব্যায়াম করা, নিয়মিত। ব্যায়াম করলে মস্তিষ্কে প্রচুর ডোপামিন নিঃসরিত হয়, এবং এটি ডোপামিন ব্যবস্থাকে সাম্যাবস্থায় ফিরিয়ে আনতে সাহায্য করে। এখন কথা হচ্ছে যে একজন মাদকাসক্তকে আপনি কীভাবে ব্যায়ামের জন্য উৎসাহ দিবেন? নিশ্চিত করবেন যে সে ব্যায়াম করছে? ব্যায়াম করতে তো সাধারণ মানুষ-ও চায় না, তাহলে তো সবার হৃদযন্ত্র ভালো থাকতো, সবাই দ্য রক হয়ে যেতো। না, মাদকাসক্তকে-ও ব্যায়ামের জন্য উৎসাহিত করা যায়। এরজন্য দরকার ভালো সামাজিক ও পারিবারিক নেটওয়ার্ক। এবং মানসিক চিকিৎসার মাধ্যমে একটি রুটিন ও মাধ্যমে আসা। 

প্রতিটি মানুষের জীবনে কিছু অবলম্বন ও কিছু লক্ষ্য থাকা দরকার। এইসব লক্ষ্য মানুষকে উৎসাহ দেয়, উত্তরণের দিকে ধাবিত করে, এবং অবলম্বনগুলো সাহায্য করে এগিয়ে যেতে। শুধু মাদকাসক্ত না, অন্যান্য অনেক মানসিক রোগের ক্ষেত্রে নানাবিধ কারণে এইসব অবলম্বন ও লক্ষ্যদের চ্যুতি ঘটে। এইসব লক্ষ্য ও অবলম্বনকে পুনরায় ফিরিয়ে আনার মাঝে নিরাময় আছে। 

যা কিছু নিষিদ্ধ তার প্রতি মানুষের (ও অন্যান্য প্রাণীর) সহজাত আগ্রহ ও কৌতূহল। মাদকব্যবসায়ীরা এটিকে কাজে লাগিয়ে নতুন নতুন গ্রাহকদের টানে, এবং ধরে রাখে। নিয়মিত সরবরাহের মাধ্যমে সাময়িক আনন্দকে ক্রমান্বয়ে আসক্তিতে পরিণত করে। এবং একবার আসক্ত হয়ে গেলে ব্যক্তি তখন এই মাদকব্যবসায়ীদের হাতের পুতুল, যেহেতু ব্যক্তির মস্তিষ্ক আর তার মস্তিষ্কের নিয়ন্ত্রণে নেই!

মাদকাসক্তির অন্যতম আরেকটি রাষ্ট্রীয় নিরাময় হতে পারে যাবতীয় মাদক অনিষিদ্ধ করে দেয়া! এটি কাউন্টার-ইন্টুইটিভ মনে হতে পারে, কিন্তু পুরো কয়েকটি দেশ এটি করে সুফল পেয়েছে। পর্তুগালের কথা বলি। মাদকাসক্তি পর্তুগালের জন্য বিশাল সমস্যা ছিলো। যুবকযুবতীরা মাদকে আসক্ত হয়ে পড়ছে, মাদক-সম্পর্কিত অপরাধ বাড়ছে। তখন বিজ্ঞানীদের পরামর্শে ও গবেষণার আলোকে দেশটি সব মাদককে ডিক্রিমিনালাইজড করে দেয়। মাদকাসক্তি ও মাদক-সংশ্লিষ্ট অপরাধ আরো বেড়ে না গিয়ে কমে গেছে, এমনকি অন্যান্য দেশের চেয়ে-ও কম। যেকোনো প্রাপ্ত বয়ষ্ক গিয়ে মাদক কিনতে পারে সরকারি বিপণনকেন্দ্রে থেকে, ফলে অপরাধের হার কমে যায় এবং যখন মাদকগ্রহণ অন্যান্য কাজের মতো "স্বাভাবিক"ভাবে গ্রহণ করা হয় তখন সেটি অ্যাবিউজ-ও কম হতে থাকে। শুধু পর্তুগাল না, অন্যান্য অনেক দেশে এইরকম আংশিক অথবা পুরোপুরি করে সফল হয়েছে। 

আমার ব্যক্তিগত মত (আমার পড়াশোনা ও গবেষণার ভিত্তিতে) যে যাবতীয় মাদক লিগালাইজ করে দেয়া, সরকারিভাবে কিনতে পারা যাবে; ফলে সরকার মান ও বিক্রি নিয়ন্ত্রণ করতে পারবে, আয়কর বাড়বে, গবেষণার সুযোগ সৃষ্টি হবে; এবং কেউ আসক্তির দিকে গেলে-ও বা যাচ্ছে এমন মনে হলে তাড়াতাড়ি ইন্টারভিন করা যাবে। 

৭ 
বাঙলাদেশে এখন মাদকাসক্তদের প্রতি যা হচ্ছে তা হচ্ছে রাজনৈতিক স্বার্থহাসিলের বলি হওয়া। ফিলিপিনের বর্তমান রাষ্ট্রপতি Rodrigo Duterte ফিলিপিনে মাদকের বিরুদ্ধে যুক্ত ঘোষণা করেছিলো ২০১৬-তে ক্ষমতায় এসে। এই পর্যন্ত ১২ হাজার মানুষ মেরেছে সেই বদমাশটি। এতে মাদকাসক্তি কমে নি, মাদক-সম্পর্কিত অপরাধ কমে নি, বরং এটি আরো বেশি অ্যান্ডারগ্রাউন্ডে গিয়েছে। 
আমেরিকার যুক্তরাষ্ট্র দীর্ঘদিন ধরে মাদকের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করে ক্ষান্ত দিয়েছে। মরেছে অনেক আফ্রিকান আমেরিকান। মাদক ঠিকই আছে।
বাঙলাদেশে-ও একই ব্যাপার হচ্ছে, এবং হবে। মাঝখান থেকে অনেকগুলো প্রাণ অকালে ঝরবে। এর দায় কে নেবে? শেখ হাসিনা? কাদের? বদি? কেউ না। কারণ, ক্ষমতার মাদকে আসক্ত হয়ে পড়েছে এই বদমাশগুলো-ও।

Saturday, April 28, 2018

ধর্ষণ-সম্পর্কে জাতীয় দৈনিক পত্রিকায় ভুল ধারণা প্রচার

মাসুদ মহিউদ্দীন মিতুল নামের একজন ফলোয়ার ধর্ষণ-বিষয়ে যুগান্তরে প্রকাশিত এই লেখাটি [https://goo.gl/Zf9XS6] শেয়ার করে জানতে চেয়েছেন এটিতে উল্লেখিত তত্ত্ব, মনোবৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা সঠিক কিনা। মোট বিচারে বলতে গেলে লেখাটির কিছু কিছু অংশ সঠিক, কিন্তু লেখাটিতে ড. মোহাম্মদ ইলিয়াস মনোবৈজ্ঞানিক তত্ত্ব ও গবেষণার ভুল ব্যাখ্যা দিয়েছেন, এবং ফ্রয়েডের ব্যাখ্যা যা কিনা আধুনিক মনোবিজ্ঞান ও স্নায়ুবিজ্ঞান সমর্থন করে না সেটি ব্যবহার করে তার বক্তব্য চালিয়ে দিতে চেয়েছেন।

Sunday, April 1, 2018

এক মুঠো মনোবিজ্ঞান বার্তা - ১

দীর্ঘমেয়াদি অ্যান্টিবায়োটিক ঔষধ ব্যবহার করার পর যখন নাড়িভুঁড়ি বা পেটের প্রায় সমস্ত মাইক্রোঅর্গানিজমগুলো মারা যায়, তখন দেখা যায় যে মস্তিষ্কের হিপোক্যাম্পাসে (যেটি স্মৃতিসংরক্ষণ বা স্মৃতি-সংক্রান্ত ব্যাপারে জড়িত, যেমন আপনার বাড়ি কোথায় বা আপনার গাড়ি কোথায় পার্ক করলেন ইত্যাদি তথ্য সংরক্ষণ করে) নতুন নতুন স্নায়ুকোষের সৃষ্টি বন্ধ হয়ে যায় বা কমে যায়।

Thursday, February 1, 2018

একুশে বইমেলা ২০১৮-তে আদর্শ প্রকাশনী থেকে প্রকাশিত হচ্ছে "আচরণগত স্নায়ুবিজ্ঞান।"

অবশেষে একুশে বইমেলা ২০১৮-তে আদর্শ প্রকাশনী থেকে প্রকাশিত হচ্ছে আমার বই "আচরণগত স্নায়ুবিজ্ঞান।" আদর্শ প্রকাশনীর ৩২৬, ৩২৭, এবং ৩২৮ নাম্বার স্টলে পাওয়া যাবে।

বইটি প্রকাশিত হওয়ার কথা ছিলো গত বইমেলায়। আমার জানা মতে বাঙলায় এই বিষয়ে এই ধরণের বই এই প্রথম। তাই পেশাদারিত্ব ও বই মুদ্রণের ভালো মান নিশ্চিত করার জন্য অনেক রিভিশন দিয়ে, অনেক পরিচর্যা করে ও সময় নিয়ে এবার নিশ্চিত প্রকাশিত হচ্ছে। প্রকাশক জানিয়েছেন মেলার প্রথম সপ্তাহ থেকে পাওয়া যাবে। তাই দ্রুত লিখে রাখুন আপনার বই-কেনার তালিকায়! :)

Saturday, January 20, 2018

আত্মহত্যা বিষয়ক কিছু ভ্রান্তি ও এইক্ষেত্রে কিছু করণীয়

এই লেখাটি আত্মহত্যা বিষয়ক। কয়েকদিন আগে কবি রহিমা আফরোজ মুন্নির মেয়ে শিল্পী আফ্রিদা তানজিম আত্মহত্যা করেছেন। তাদের দুজনের কারো সাথে আমার পরিচয় নেই, ছিলো না, কিন্তু আফ্রিদার আত্মহত্যার খবর ফেইসবুকে দেখে বুকটা হাহাকার করে উঠলো, বিশেষত তার আঁকা ছবি দেখে মনে হলো সে অনেক সম্ভাবনাময়ী শিল্পী ছিলো এবং পৃথিবী বিশেষত বাঙলাদেশ একজন ভালো শিল্পী হারালো। আমি ছবি আঁকা শিল্প বুঝি না, যেসব ছবি আমার মনোযোগ ধরে রাখে অনেকক্ষণ তাকিয়ে তাকতে ইচ্ছে হয় সেগুলোই আমার কাছে মহৎ শিল্প, ভালো ছবি। ভ্যান গগ আমার প্রিয় শিল্পী, সূর্যমুখী ফুলের একটি ছবি আছে তার, জীবন্ত সূর্যমুখী মনে হয় দেখে, আমি অনেকক্ষণ চেয়ে থাকি। সেই বিচারে আফ্রিদার ছবি দেখে আমার মনে হচ্ছিলো একেকটি ছবিতে অসংখ্য গল্প, চরিত্র, তাদের আত্মকথা ফুটে উঠেছে; মনে হচ্ছিলো একেকটি ছবি দেখে আমি একেকটি কবিতা লিখতে পারবো। মৃত্যু অবশ্যম্ভাবী, কিন্তু সেই মৃত্যু আত্মহত্যা হলে আমার মাঝে কেনো জানি অসহ্য অক্ষমতার যন্ত্রণা কাজ করে। আমি নিজে-ও জীবনে আত্মহত্যার কথা ভেবেছি (পরিসংখ্যান মতে প্রতি তিনজন মানুষের একজন জীবনের কোনো না কোনো সময় আত্মহত্যার চিন্তা করে!), কানাডায় আসার প্রথম কয়েক বছর আমি হালকা বিষণ্ন ছিলাম (নিজের বর্তমান মানসিক স্বাস্থ্য বিষয়ক জ্ঞান দিয়ে সেইসময় পর্যালোচনা করলে মনে হয়), আমার কোনো বন্ধু ছিলো না, নতুন দেশ নতুন ভাষার পিস্টনে ভেতরে ভেতরে একা; ইংরেজি কয়েকশ শব্দ জানি বটে, বাক্য গঠন হয় না তখনো, ফরাসি তো নাই বলা চলে। এইসব কথা বলার কারণ হচ্ছে যে আত্মহত্যার অন্যতম কারণ হচ্ছে নিঃসঙ্গতা। নিঃসঙ্গতা বিষণ্নতা রোগের-ও অন্যতম কারণ। পরিসংখ্যান মতে যারা আত্মহত্যা করে তাদের ৫০% বিষণ্নতায় ভুগে। আমি আত্মহত্যার চেষ্টা করি নি, চিন্তা করেছি (যারা আত্মহত্যার চেষ্টা করে তাদের মাঝে ৩৩% একবার হলে-ও আত্মহত্যার চেষ্টা করে)। তাই নিজের জীবনের সেই ফেলে আসা সময়ে চোখ রেখে আমি বুঝতে পারি আত্মহত্যার করা মানুষগুলো কী অসহ্য যন্ত্রণা কষ্টের মধ্য দিয়ে যায় যে তারা মনে করে আত্মহত্যাই তাদের জীবনের সর্বোচ্চ সমাধান। হ্যাঁ, তারা আত্মহত্যাকে সমাধান হিসেবে ব্যবহার করে, কিন্তু এই সমাধান সর্বোচ্চ যৌক্তিক সমাধান নয়- এইটুকু বোঝাতে পারলে, উপলব্ধি করাতে পারলে অনেক আত্মহত্যা ঠেকানো সম্ভব।

Tuesday, May 16, 2017

13 Reasons Why ও কপিক্যাট আত্মহত্যা

নেটফ্লিক্সের সিরিজ 13 Reasons Why নিয়ে কিছু কথা বলা দরকার। সিরিজটির মূল কাহিনি হচ্ছে যে উচ্চ বিদ্যালয়ের এক ছাত্রী আত্মহত্যা করে এবং ১৩টি টেপ রেখে যায় তার আত্মহত্যার সিদ্ধান্ত নেয়ার পেছনে একেক ব্যক্তির অবদান সম্পর্কে- একেকটি পর্ব একেকটি টেপ নিয়ে, যেখানে আত্মহত্যার পেছনে একেকজনের প্রভাব চিত্রিত হয়েছে। শেষ পর্বে এসে আত্মহত্যাকে ভয়ানকভাবে চিত্রায়িত করা হয়েছে, খানিকটা গ্লোরিফাই-ও করা হয়েছে।
সিরিজটি নিয়ে একেকজনের একেক অভিমত; কেউ বলছেন যে বেশ ভালোভাবে একটি কিশোরীর মানসিক অবস্থা এবং কেনো সে আত্মহত্যার পথ বেছে নেয় ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। আত্মহত্যাপ্রবণতা নিয়ে কথা বলা দরকার, বিশেষ করে যাদের বয়েস ১৫-২৪ তাদের মাঝে আত্মহত্যাপ্রবণতা অনেক; কারণ, এই বয়েসসীমাটি অনেক ঝুঁকিপূর্ণ, মানুষের মস্তিষ্ক পুরোপুরি বিকশিত হতে প্রায় ২৫ বছর লাগে, ফলে এই বয়েসসীমার অনেকের ইনহিভিশন কম থাকে, এছাড়া চিন্তাচেতনা, দূরদর্শীতা, বুদ্ধির ধার ইত্যাদি একজন পূর্ণবয়ষ্কের মতো নয়। অন্যান্য বয়েসসীমার তুলনায় এই বয়েসসীমার ব্যক্তিদের মাঝে আত্মহত্যার হার এমনিতেই বেশি। কিন্তু একটি কথা মনে রাখা দরকার যে সিরিজটি আত্মহত্যার মতো সংবেদনশীল ব্যাপারটি নিয়ে আলোচনা, সচেতনতার পথ খুলে দিলে-ও এটি কিন্তু এই ধারণা-ও তুলে ধরে যে আত্মহত্যা সমস্যার সাথে মোকাবেলার করার একটি উপায় (হয়তোবা শেষ উপায়), অথচ আত্মহত্যা কখনোই সমস্যা মোকাবেলার উপায় নয়।
আপনি ভাবতে পারেন যে আরে সিরিজ দেখে তো আমি আত্মহত্যাপ্রবণ হয়ে যাবো না, কিংবা কোনো কিশোরকিশোর হবে না। তবে মনে রাখা দরকার যে আত্মহত্যার ব্যাপারটি ছোঁয়াচে রূপ নিতে পারে, অনেক সময় দেখা যায় যে একেকটি অঞ্চলে একেক সময়ে গুচ্ছ গুচ্ছ আত্মহত্যার প্রবণতা লক্ষ্য করা যায়, একেকজনের দেখাদেখি আরেকজন করার সাহস পায়, যেটাকে কপিক্যাট আত্মহত্যা (copycat suicide) বলতে পারেন। যেমন- নির্ভানা (Nirvana) ব্যান্ডের গায়ক কার্ট কোবেইন (Kurt Cobain) আত্মহত্যা করেছিলো তখন আমেরিকার যুক্তরাষ্ট্রের কিশোরকিশোরীদের (বিশেষ করে তার ভক্ত ও তার এলাকার) মাঝে আত্মহত্যার হার বেড়ে গিয়েছিলো; এটি তুলে ধরে যে মানুষ আত্মহত্যা করা শিখে, এবং একেকজনের আত্মহত্যা অন্যজনকে উদ্বুদ্ধ করে। ঠিক তেমনি নেটফ্লিক্সের সিরিজ কিশোরকিশোরিদের মাঝে আত্মহত্যাকে লঘু ব্যাপার হিসেবে তুলে ধরতে পারে, যেহেতু একটি মেসেজ নেয়ার প্রবণতা একেকজনের কাছে একেক রকম, তাই নিশ্চিত করে বলতে পারবেন না একেকজন কিশোরকিশোরীর মনে প্রভাব কেমন হবে; ঝুঁকিপূর্ণ কাউকে উদ্বুদ্ধ করতে পারে।
নাটক, বইপত্তুর, অর্থাৎ শিল্প বা শিল্পকর্মের প্রভাবে আত্মহত্যার ঘটনা কিন্তু নতুন কিছু নয়। যেমন, ১৭৭৪ সালে জোহান উলফগ্যাং ভন গেইথের উপন্যাসে, The Sorrows of Young Werther, নায়ক ওয়ার্থারের বন্ধু আলবার্টের সাথে বিয়ে হয়ে যায় তার প্রেমিকা শার্লোটের, হৃদ্ঘটিত ব্যথাবেদনা সহ্য না করতে পেরে আলবার্টের পিস্তল দিয়ে নিজেকে নিজে মেরে ফেল। পরে সেইসময়ে ইউরোপে অনেক যুবক আত্মহত্যা করেছিলো, যারা ওয়ার্থারের মতো পোশাক পরে এবং একই ধরণের পিস্তল ব্যবহার করেছিলো আত্মহত্যার জন্য। অনেকের শবদেহের পাশে উপন্যাসটি আত্মহত্যার পাতাটি খোলা অবস্থায় পাওয়া-ও যায়! অর্থাৎ, ভালো শিল্প বাস্তব ও কল্পনার জগৎটাকে ধোঁয়াশা করে তুলতে পারে; বিশেষ করে মানসিকভাবে (ও শারীরিকভাবে) দুর্বলদের ক্ষেত্রে)। আত্মহত্যা নিয়ে গবেষণা করা অন্যতম গবেষক ডেইভিড ফিলিপস ওয়ার্থার প্রভাব (The Werther Effect) শব্দগুচ্ছ উদ্ভাবন করেন এই ধরণের কপিক্যাট আত্মহত্যার জন্য। তার গবেষণার অন্যতম একটি সুপারিশ হচ্ছে যে আত্মহত্যাস-সংক্রান্ত ঘটনাবলি যেনো সংবাদপত্রের সামনের পৃষ্ঠায় না ছাপানো হয়।
আরেকটি ঘটনার কথা বললে সংবাদপত্র ও এইসব মাধ্যমের প্রভাব ভালোভাবে তুলে ধরা যাবে। ১৯৮০ সালের দিকে ভিয়েনাতে পাতালরেলে আত্মহত্যার ঘটনা বেড়ে যায়, সংবাদপত্রগুলো-ও নিয়মিত ফলা করে এই ব্যাপারে রিপোর্ট করতে থাকলো। পরে শহরের প্রধান সংবাদপত্রগুলো সিদ্ধান্ত নেয় যে আত্মহত্যার ঘটনা আর ছাপাবে না। দেখা গেলো যে আত্মহত্যার ঘটনা কমে আসে। অর্থাৎ, আমরা যেসব মিডিয়া ব্যবহার (ও গলদ্গরণ) করি আমাদের মানসিক স্বাস্থ্যের উপর সেগুলোর প্রভাব অনেক।
সেলেব্রেটি বা তারকাদের আত্মহত্যার ঘটনা যে সাধারণ জনসাধারণের মাঝে আত্মহত্যা প্রবণতা বাড়িয়ে দেয় সেটির আরেকটি নির্দশন হচ্ছে যে মেরিলিন মনরোর মৃত্যুতে ৩০ বছর বয়েসী নারীদের মাঝে আত্মহত্যার ঝুঁকি বেড়ে গিয়েছিলো। আমাদের দেশে-ও এই ধরণের উদাহরণ আছে, একটু ব্যতিক্রম যদিও। হুমায়ূন আহমেদের বাকের ভাইয়ের কথা মনে আছে? যদি-ও বাকের ভাই আত্মহত্যা করে নি, বরং তার ফাঁসি দেয়া হচ্ছিলো এবং সেই ফাঁসির বিরুদ্ধে জনগণের মিছিল, নাটকের শ্যুটিং বন্ধ করা এইসব ঘটনা নির্দেশ করে কীভাবে কাল্পনিক চরিত্রের সাথে বাস্তবের মানুষগুলো মেলবন্ধন খুঁজে নিতে পারে; এবং সেই ক্ষেত্রে এইসব সাদৃশ্য মানুষকে নানাবিধ সিদ্ধান্তের দিকে ধাবিত করতে পারে।
যাইহোক, টিভি এবং চলচ্চিত্রে আত্মহত্যার কল্পিত চিত্রকলার প্রভাব কী সেটি নিয়ে গবেষণার অনেক জটিল। কিছু কিছু গবেষণা সাধারণ জনগণের উপর আত্মহত্যা চিত্রায়নের প্রভাব ফেলে-ও কিছু কিছু গবেষণা তেমন কোনো প্রভাব পায় নি। তবে এটি নিশ্চিত যে কপিক্যাট আত্মহত্যা সত্য, এবং আমাদের উচিত ওয়ার্থার প্রভাব সম্পর্কে সচেতন থাকা।
ইতিমধ্যে কানাডার কিছু ইস্কুল বোর্ড নেটফ্লিক্সের এই সিরিজ সম্পর্কে অভিভাবক ও শিক্ষকশিক্ষিকাদের সতর্ক করে দিয়েছে, বিশেষ করে সিরিজটির গ্রাফিক উপাদান (যার প্রভাব কম বয়েসীদের উপর বেশি) ও আত্মহত্যাকে বেশি মাত্রায় ফুটিয়ে তোলার কারণে। যেমন, সিরিজটাতে আত্মহত্যা-সংক্রান্ত ব্যাপারকে গ্ল্যামোরাইজেশন করা হয়েছে, একই সাথে পেশাদারি লোকদের কাছ থেকে (যেমন- মনোবিজ্ঞানী, মনোচিকিৎসক, কিংবা ডাক্তারদের) প্রয়োজনে সাহায্য ও পরামর্শ চাওয়ার ব্যাপারটিকে নেতিবাচকভাবে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে, ফলে অপ্রাপ্তবয়ষ্করা প্রয়োজনের সময়ে সাহায্য ও পরামর্শ চাওয়ার ক্ষেত্রে দ্বিধাবোধ করতে পারে।
অন্টারিওর একটি ইস্কুল বোর্ড অভিভাবকদের পরামর্শ দিয়েছেন যেনো তারা সন্তানদের (বয়েস ১৮ এর কম) সাথে এক সাথে সিরিজটি দেখেন, ফলে সন্তানদের কোনো প্রশ্ন কিংবা জিজ্ঞাসা থাকলে যেনো সেগুলো উত্তর দেয়া যায়।
সবচেয়ে বড় কথা, আপনার সন্তান কিংবা কিশোর বয়েসী ভাইবোনদের সাথে আত্মহত্যা নিয়ে কথা বলতে পারে, জিজ্ঞেস করতে পারেন অথবা পর্যবেক্ষণ করতে পারেন তাদের মাঝে আত্মহত্যাপ্রবণতা আছে কিনা; অধিকাংশ আত্মহত্যার আগেই আত্মহত্যাকারী প্রচুর আলামত দেখায় (যেমন- বন্ধুবান্ধবদের পরিকল্পনা-সংক্রান্ত ব্যাপারে প্রশ্ন করা, জিনিসপত্র জোগাড় করা)। মনে রাখা দরকার যে মানসিক সমস্যার ক্ষেত্রে খোলামেলা আলোচনার দরকার অনেক বেশি, অনেক সময় আলোচনার মাধ্যমে অনেক কিছুর সমাধান পাওয়া যায়, অথবা, কথা বলার মানুষ পেলে অনেকের ভার লাগব হয়।
এর মানে এই না যে এই ধরণের সিরিজ দেখা বন্ধ করে দেয়া উচিত। বরং এই ধরণের সিরিজ দেখার ফলে যেসব জিজ্ঞাসা জন্মে সেগুলো নিয়ে আলোচনা করা দরকার, সচেতনতা সৃষ্টি করা দরকার। একটা ব্যাপার নেটফ্লিক্স সিরিজটা কৃতিত্বের দাবিদার। বুলিং, ধর্ষণ, আত্মহত্যা ইত্যাদি ব্যাপারে আলোচনাকে সামনে নিয়ে আসতে সাহায্য করেছে, অনেকে এই ব্যাপারে কথা বলছে, যা একদিকে সচেতনা সৃষ্টির প্রথম ধাপ।


Wednesday, May 3, 2017

একজন কাসেম বিন আবুবাকার, পেডোফিলিয়া, ও বাঙলাদেশের মিডিয়া

কাসেম বিন আবুবাকার 'লেখক' হিসেবে যাই হোক না কেনো, তার বক্তব্য ও লেখনী পড়ে মনে হয় লোকটি একজন পার্ভাট, সম্ভবত একজন পেডোফাইল (pedophile)। উচিত তাকে আইনের আওতায় এনে জিজ্ঞাসাবাদ করা, সাইকোলজিক্যাল টেস্ট করা (পেডোফিলিয়ার জন্য), এবং তার মানসিক চিকিৎসা প্রয়োজন।

তিনি মিডিয়ায় যে বক্তব্য দিয়েছেন- শিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালনের সময়ে দ্বিতীয় শ্রেণিতে পড়া তার এক ছাত্রীর প্রেমে পড়া এবং তার প্রতি আকৃষ্ট হওয়া, এটি পেডোফিলিয়ার লক্ষণ। তার প্রচুর লেখনীতে-ও এইসব উপাদান আছে (যেমন- ছোট মেয়ে লজিং মাস্টারের প্রেমে পড়ে এবং পরে তাদের মাঝে প্রেম হয় ইত্যাদি)। অন্য কোনো দেশ হলে (যেসব দেশে ধর্ষণ, নারী ও শিশু অধিকার, এবং শিশুদের প্রতি যৌন নিপীড়নের বিরুদ্ধে যথেষ্ট আইন আছে এবং তা প্রয়োগ করা হয়) এতোদিনে তাকে গ্রেফতার করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হতো। অথচ আমাদের দেশে অনেকে ব্যাপারটাতে "রোমান্টিকতা" খুঁজে পাচ্ছেন, মিডিয়া এই পার্ভাটকে মাথায় তুলছে, সাক্ষাৎকার নিচ্ছে।

Monday, April 10, 2017

অটিজম: কিছু কারণ, কিছু ভুল ধারণা ও কিছু করণীয়

অটিজম: কিছু কারণ, কিছু ভুল ধারণা ও কিছু করণীয়।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের ইনবক্সে একজন লিংক শেয়ার করে অভিমত জানতে চাওয়ায় উইমেন-চ্যাপ্টারে অটিজম নিয়ে প্রকাশিত লেখাটি পড়লাম। এক কথায় বলতে গেলে লেখাটি ভুলে ভরা এবং বিভ্রান্ত-সৃষ্টিকারী অটিজমের মতো একটি জটিল জেনেটিক-নিউরোবায়োলজিক্যাল-সাইকোলজিক্যাল ডিসঅর্ডারকে শুধুমাত্র "অপুষ্টিজনিত" রোগ বা সমস্যা হিসেবে বর্ণনা করা ও চিকিৎসা-উপদেশ দেয়া জ্ঞানের অপরিপক্কতা, এবং অটিস্টিক শিশু ও তাদের অভিভাবকের জন্য বিভ্রান্ত-সৃষ্টিকারী ও অপমানসূচক।

অটিজমের অনেক কারণ আছে, নিত্যনতুন গবেষণায় আরো অনেক কারণ ও ফ্যাক্টর সম্পর্কে জানা যাচ্ছে। কিন্তু অটিজম শুধুমাত্র অপুষ্টিজনিত কোনো ডিসঅর্ডার নয়।

পুষ্টির ব্যাপারটি এতোই মৌলিক যে আপনি ইচ্ছে করলে সব রোগের সাথে পুষ্টির সম্পর্ক খুঁজে পাবেন। কারণ শরীর ও মস্তিষ্কের যাবতীয় জৈবরাসায়নিক প্রক্রিয়ার জন্য প্রয়োজন জ্বালানি বা পুষ্টি। তবে অটিজমে আক্রান্ত শিশুদের ক্ষেত্রে যে অপুষ্টিজনিত চিহ্ন চোখে পড়ে সেগুলো রোগের কারণ নয়, বরং "ফলাফল" বা কনসিকিউয়েন্স। একটি উদাহরণ বা উপমা দিয়ে বুঝাই। যেমন ধরেন ভাইরাসের আক্রমণে আপনার হেপাটাইটিস এ হয়েছে, ফলে জ্বর, ক্ষুধামন্দা ইত্যাদির কারণে আপনি শুকিয়ে গেলেন, খাদ্যে রুচি পান না, এবং স্বাভাবিকভাবে আপনার শরীরের পুষ্টির ঘাটতি দেখা দেবে। এখন আপনি হেপাটাইটিস এ হওয়ার জন্য কি অপুষ্টিকে দায়ী করবেন? না, বরং ভাইরাসকে। অপুষ্টিজনিত চিহ্ন ও লক্ষণগুলো রোগের ফলাফল বা রোগের কারণে সৃষ্টি, রোগ সৃষ্টির কারণ নয়। অটিজমের ক্ষেত্রে-ও তাই। তবে পুষ্টিকর খাবার খেলে যেমন সব রোগের ক্ষেত্রে উন্নতি হয়, পুষ্টিকর খাবার খেলে অটিস্টিক শিশুদের-ও উপকার হবে।

প্রতিদিনের সাধারণ কাজগুলো, যেমন, হাত দিয়ে কিছু খাওয়া, জুতোর ফিতে লাগানো, ইত্যাদি ব্যাপারগুলো আপনার আমার কাছে সহজ মনে হলে-ও অটিস্টিক শিশুদের জন্য এই কাজগুলো-ও বিশাল যুদ্ধজয়ের মতন। অনেক শিশু নিজের মতো করে অন্যান্য "স্বাভাবিক শিশুদের মতো খায় না, অনেক অভিভাবকরা-ও বাচ্চাদের পুষ্টির ব্যাপারে যথেষ্ট জ্ঞান রাখেন না, ফলে অটিস্টিক শিশুরা প্রায় পুষ্টিহীনতায় ভুগে। তবে শুধুমাত্র পুষ্টিহীনতা অটিজম সৃষ্টি করে না, অটিজমের লক্ষণ ও অবস্থাকে আরো খারাপ করে তুলতে পারে

পুষ্টিহীনতা অটিজম সৃষ্টিতে প্রভাব রাখতে পারে যদি এই পুষ্টিহীনতা ক্রিটিক্যাল পিরিয়ডে হয়ে থাকে। যেমন গর্ভকালীন সময়ে ও শিশুর জন্মের প্রথম কয়েক বছরে। তবে গর্ভকালীন ও জন্ম-পরবর্তী প্রথম কয়েক বছরে যখন মস্তিষ্ক ও শরীরের বিকাশ দ্রুত গতিতে ঘটে তখন পুষ্টিহীনতায় ভুগলে শুধুমাত্র অটিজম না আরো অসংখ্য শারীরিক ও মানসিক রোগ ও ডিসঅর্ডার হতে পারে। পুষ্টিহীনতা কখনোই ভালো নয়, কিন্তু পুষ্টিহীনতা অটিজমের একমাত্র ও প্রধান কারণ নয় (যেটি শাহমিকার লেখায় দাবি করা হয়েছে)। পুষ্টিহীনতা বড়জোর অনেকগুলোর একটি কারণ কিংবা প্রভাবক হতে পারে (এই বিষয়ে পরবর্তীতে লিখছি)। আপনার শিশু যদি স্বাভাবিকভাবে জন্মগ্রহণ করে এবং স্বাভাবিকভাবে বেড়ে ওঠে তবে হঠাৎ পুষ্টিহীনতায় ভুগলে তার অটিজম হবে না, হওয়ার সম্ভাবনা ১% এর চেয়ে-ও কম। তবে পুষ্টিহীনতা অন্য অনেক রোগ হতে পারে।

অটিজমের সাথে পুষ্টিহীনতার সম্পর্ক আছে? আছে, তবে এটি কজ-এন্ড-ইফেক্ট (cause-and-effect) বা কারণ-ফলাফল ধরণের সম্পর্ক নয়, বরং কোরিলেশনাল। যেমন ধরুন, আমি এবং আপনি মানুষ (তাই আমাদের মধ্যে কোরিলেশন আছে), কিন্তু আমি আপনার জীবনকে পরিবর্তন করছি না আমূলভাবে, অর্থাৎ আমি কার্যকরী কারণ নই। কিছু কিছু গবেষণা অটিজমের সাথে পুষ্টিহীনতার সম্পর্ক খুঁজে পায় বা পাচ্ছে, এইসব গবেষণার অন্যতম ক্রটি হচ্ছে যে এগুলো অন্যান্য কারণগুলোকে (যেমন, বায়োলজিক্যাল কিংবা সাইকোলজিক্যাল) কন্ট্রোল না করেই উপাত্ত বিশ্লেষণ করে, ফলে ফলাফল বড় আকারে দেখায়, কিন্তু বাস্তুবিকভাবে অন্যান্য কারণগুলোর প্রভাবকে নিয়ন্ত্রণ করে ধরলে পুষ্টিহীনতার প্রভাব ততো থাকে না। আর এই পুষ্টিহীনতা ক্রিটিক্যাল সময়ে হতে হয় (যেমন- গর্ভকালীন কিংবা জন্মের প্রথম কয়েক বছরে)।

অটিজম আসলে কী?

অটিজম হচ্ছে মূলত নিউরোডেভেলপমেন্টাল ডিসঅর্ডার, অর্থাৎ মস্তিষ্কের বিকাশ বয়স অনুসারে স্বাভাবিকভাবে হয় না, ফলে আচরণগত ও চিন্তাগত সমস্যা ও লক্ষণ দেখা দেয়। পৃথিবীতে ২০১৩ সালে প্রায় ২১.৭ মিলিয়ন মানুষ (শিশু ও পূর্ণবয়ষ্ক) অটিজম ও অটিজম-সংক্রান্ত ডিসঅর্ডারে আক্রান্ত ছিলেন বলে জানা গেছেআমেরিকার যুক্তরাষ্ট্রে প্রতি ৬৮ জন শিশুর ১ জন অটিজম বা এই ঘরনার রোগে ভুগে। আরেক তুলনায় এই সংখ্যা অনেক বেশি, মূলত নিত্য নতুন গবেষণার ফলে দ্রুত ও দক্ষতার সাথে ডিসঅর্ডারটি সনাক্ত করতে পারা ও অভিভাবকের মাঝে এর সম্পর্কে সচেতনতার কারণে এই সংখ্যা পূর্বের তুলনায় বেশি।

এই ডিসঅর্ডারে ভোগা শিশুদের লক্ষণ দেখা দেয় জন্মের পরের প্রথম তিন বছরের মাঝেই। অন্যান্য স্বাভাবিক শিশুদের মতো তাদের মোটর বিকাশ (যেমন, হাঁটা চলা করতে না পারা, বা বয়েসের তুলনায় দেরিতে করা) বাঁধাগ্রস্ত হয়। ভাষিক দক্ষতা রপ্ত হয় না, যেমন কথা বলতে পারে না সঠিকভাবে, বাক্য-গঠন কিংবা শব্দ গঠন করতে পারে না, শব্দের উচ্চারণ সঠিক হয় না, অনেক ক্ষেত্রে এই বাক্য ও শব্দ বারবার বলতে থাকে। কেউ কিছু বললে সেটি সহজে বুঝতে পারে না, যেমন কেউ কৌতুক করলে সেটিকে আক্ষরিক অর্থে নেয়, কৌতুক হিসেবে নয়। অন্যের ইনটেনশন কী তা অনুধাবন করতে পারে না, যেমন ধরুন আমি আর আপনি টেবিলের এই পাশে ও ওপাশে বসে আছি এবং আমাদের মাঝখানে টেবিলের উপর খাতা-কলম রাখা কিন্তু আমার নাগালের বাইরে। আমি খাতা-কলম নেয়ার জন্য হাত বাড়ালে কিন্তু নাগাল না পেলে অনেক স্বাভাবিক শিশুই সাহায্য করার জন্য খাতা-কলম আমার দিকে ঠেলে দেবে। অটিস্টিক শিশুরা এই ব্যাপারটি বুঝতে পারে না, বুঝতে কষ্ট নয়, অর্থাৎ তারা আমি কী চাইছি, কী করতে চাইছি এইসব সামাজিক কিউ সম্পর্কে ধারণা কম রাখে। মনোবিজ্ঞানে এই ব্যাপারটিকে বলে থিউরি অফ মাইন্ড (theory of mind), অর্থাৎ আমি যেভাবে চিন্তা ও কাজ করি সেই ধারার মতো অন্য কেউ চিন্তা ও কাজ না করতে পারে, অন্যের ইনটেনশন কী তা বুঝে উঠতে পারা এইসব। অটিস্টিক শিশুদের এইসব সামাজিক আচরণে সমস্যা পেতে হয়। অধিকাংশ শিশু একই কাজ বারবার করে (যেমন, কোনো খেলনা বা সামগ্রীকে একইভাবে বারবার ঘোরানো), অনেকে নিজের ক্ষতি-ও করে (যেমন- হাত পা কাটা, কিংবা মাথা দেয়ালে বাড়ি মারা ইত্যাদি)। শুধু তাই নয়, তারা তাদের মনোভাব প্রকাশ করতে পারে না বা প্রকাশ করতে বেগ পেতে হয় (ভাষিক জ্ঞান কম থাকায় ও মনোভাব প্রকাশের ক্ষেত্রে দক্ষতা না থাকায়), যেমন ঠাণ্ডা লাগলে শিশু মুখ ফুটে না-ও বলতে পারে যে তার ঠাণ্ডা লাগছে। অধিকাংশের আচরণে কঠোর মনোভাব বা রিজিড ভাব থাকে, মানে একবার মাথায় যা আসে তাই নিয়ে থাকা, অর্থাৎ আচরণে ফ্লেক্সিবিলিটি না থাকা। অর্থাৎ সামাজিক, ভাষিক, চিন্তামূলক ও আচরণগত অনেক আচরণের সমষ্টি হচ্ছে অটিজম। একেক শিশুর মাঝে আচরণে এইসব অস্বাভাবিকতা কম বা বেশি পরিমাণে বা মাত্রায় থাকে, এই জন্যই এটি একটি স্পেকট্রাম ডিসঅর্ডার, অর্থাৎ, মনে করুন যে ০ থেকে ১০০ পর্যন্ত দাগাঙ্কিত একটি স্কেল, একেক জনের আচরণের মাত্রা ০ থেকে ১০০ মাঝে একেক অংশে পড়ে; অর্থাৎ কারো ৫ হলে সে ততো বেশি অটিস্টিক নয়, আবার কারো ৮৫ হলে তার অনেক অটিস্টিক লক্ষণ আছে, এইরকম।

অটিজম ও অন্যান্য অনেক সাইকোলজিক্যাল ডিসঅর্ডার হচ্ছে বায়োসাইকোসোশ্যাল (biopsychosocial) অসংখ্য কারণে সৃষ্টি। একেকজনের ক্ষেত্রে মূল কারণ একেক রকম হয়, অধিকাংশ ক্ষেত্রে একটি বা দুটি নয়- অনেকগুলো কারণ অথবা ফ্যাক্টরের সমষ্টি ও তাদের মিথস্ক্রিয়ার কারণে রোগের লক্ষণ দেখা দেয় বা ডিসঅর্ডার সৃষ্টি হয়অটিজমের ক্ষেত্রে জেনেটিক, ডেভেলপমেন্টাল (গর্ভকালীন ও নবজাতক সময়কালীন), পারিবারিক ও সামাজিক কারণ-ও আছে। তাই অটিজমকে শুধুমাত্র অপুষ্টিজনিত রোগ হিসেবে চিহ্নিত করা দূরদর্শীতা ও জ্ঞানের অভাব। আমি এই লেখায় একেকটি ক্যাটেগরির (জেনেটিক, ডেভেলপমেন্টাল, পারিবারিক ও সামাজিক একেকটি কারণ নিয়ে কথা বলবো সংক্ষেপে, তবে এই কারণগুলোই শেষ ও একমাত্র প্রধান কারণ নয়

জেনেটিক: অনেক অটিস্টিক শিশুদের ক্ষেত্রে ক্রোমোজোমাল আবনরমালিটি (chromosomal abnormalities) দেখা যায়২, ৩যেমন অনেক অস্টিস্টিক শিশুদের (বিশেষত ছেলেদের) এক্স ক্রোমোজোম পুরোপুরি কপি হয় নি নিষেকের পরে ক্রোমোজোম সৃষ্টির সময় কিংবা কিছু অংশ বাদ পড়েছে বা "ভেঙে" গেছে। ছেলেদের মেয়েদের তুলনায় অটিজম ৪-৫ গুণ বেশি হয়, এর পেছনে অন্যতম কারণের একটি হচ্ছে ক্রোমোজোমে ক্রুটি। আমরা জানি যে পুরুষ বা ছেলে শিশুদের এক্স ক্রোমোজোম একটি মাত্র হয়ে থাকে (মায়ের কাছ থেকে পাওয়া), ফলে এই একমাত্র ক্রোমোজোমে সমস্যা থাকলে জিন এক্সপ্রেশনের সময় সমস্যা দেখা দেয়ার সম্ভাবনা বেশি থাকে। অন্যদিকে মেয়েদের দুটো এক্স ক্রোমোসোম থাকে, ফলে একটিতে সমস্যা থাকলে অন্যটি ভালো হলে প্রভাব অতো ভয়াবহ বা নাজুক হয় না। এছাড়া অন্যান্য অনেক জেনেটিক কারণ আছে, যেমন, অনেক জিন একেকটি ক্রোমোজোমে যেখানে থাকার কথা সেখানে থাকে না, অন্যত্র স্থানান্তর করে; এছাড়া অনেক জিনে ক্রটি পাওয়া যায় (যেমন, জিনের এক্সপ্রেশনে গণ্ডগোল, প্রোটিন সংশ্লেষণে সমস্যা ইত্যাদি; এইসব কাজ শারীরবৃত্তীয় কাজের ও আচরণের "স্বাভাবিক বিকাশের" জন্য প্রয়োজন। সাম্প্রতিক কিছু গবেষণা এপিজেনেটিক কারণ-ও (অর্থাৎ জিনে সমস্যা না হলে জিনের প্রকাশে সমস্যা দেখা দেয়) তুলে ধরছে

নিউরোবায়োলজিক্যাল বা নিউরোসাইকোলজিক্যাল বা নিউরোডেভেলপমেন্টাল: অটিস্টিক শিশুদের মস্তিষ্কের আকার সাধারণত সাধারণ শিশুদের তুলনায় অনেক বড় হয়ে থাকে এবং স্নায়ুকোষগুলোর মাঝে অস্বাভাবিক রকমের বেশি সংযোগ লক্ষ্য করা যায়টার একটি বিবর্তনীয় ব্যাখ্যা আছে। যাকগে, ভ্রুণের যখন প্রথম ও দ্বিতীয় ট্রাইমিস্টারে মস্তিষ্কের গঠন ও সংযোগ সৃষ্টি হয় তখন অনেক অপ্রয়োজনীয় সংযোগ সৃষ্টি হয় (ব্যাপারটি অনেকটা এইরকম, বাড়ির সবগুলো পাইপের সাথে অন্যান্য পাইপের সংযোগ দেয়া হয়, পরে এই সব সংযোগের মধ্যে যেগুলো কাজে লাগে ও বেশি ব্যবহৃত হয় সেগুলো রাখা হয় এবং বাকিগুলোকে জ্বালানি ও স্নায়ুবিক যোগাযোগ দ্রুত করার জন্য বাতিল করা হয়। ব্যাপারটিকে স্নায়ুসন্ধিক ছাঁট বা সিন্যাপ্টিক প্রুনিং (synaptic pruning) বলা হয়। অটিস্টিক শিশুদের ক্ষেত্রে এই স্নায়ুসন্ধিক প্রুনিং ঘটে না বা খুব কম হয়ফলে তাদের মস্তিষ্ক বড় হলে-ও স্বাভাবিক আচরণের ও দক্ষতার জন্য প্রয়োজনীয় সংযোগ (মস্তিষ্কের এক অংশের সাথে অন্য অংশের) সৃষ্টি হয় না, কিংবা সৃষ্ট সংযোগগুলো দ্রুততর ও এফিশিয়েন্ট নয়এছাড়া তাদের মস্তিষ্কের বিভিন্ন অংশে গঠনে-ও ভিন্নতা চোখে পড়ে১০যেহেতু মস্তিষ্ক মানুষ ও প্রাণীদের যাবতীয় আচরণ সৃষ্টি করে তাই মস্তিষ্কের অস্বাভাবিকতার কারণে আচরণে ভিন্নতা আসবে এটা হচ্ছে নিউরোবায়োলজিক্যাল কারণগুলোর অন্যতম।

পারিবারিক ও সামাজিক: আধুনিক কিছু সাইকোলজিক্যাল গবেষণা মতে অটিজম ৩-৬ মাসের বয়েসের বাচ্চাদের ক্ষেত্রে-ও চিহ্নিত করা যায়। যেমন মস্তিষ্কের গঠন ও শিশুদের চোখের দৃষ্টি লক্ষ্য করে১১আমরা যখন কারো সাথে কথা বলি কিংবা কোনো কিছুতে ব্যাপাক আগ্রহ পাই তখন সেই ব্যাক্তির চোখের দিকে তাকাই। অটিস্টিক শিশুরা এটি করে না। চোখের দৃষ্টির এই ভিন্নতাকে ভিত্তি করে কিছু ডায়াগনস্টিক টুলস সৃষ্টি হচ্ছে। যাহোক, অটিজম যদি খুব অল্প বয়েসে শনাক্ত করা যায় তবে দ্রুত ইন্টারভিন করা যাবে (যখন মস্তিষ্ক বিকশিত হচ্ছে দ্রুত বেগে), ফলে মাত্রা কমানো যেতে পারে। অটিস্টিক শিশুরা দেরিতে কথা বলা শিখে, উচ্চারণে ক্রটি থাকে, একই বাক্য বা শব্দ বার বার বলে (একই আচরণ-ও বারবার করে), অনেকের সাইকোমোটর ফাংশনালিটিতে অস্বাভাবিকতা চোখে পড়ে। তাই যতো দ্রুত চিহ্নিত করা যায় ততো ভালো। যেহেতু অনেক অভিভাবক (বিশেষত আমাদের দেশের) মানসিক স্বাস্থ্য সম্পর্কে যথেষ্ট ধারণা রাখেন না ফলে তারা অনেক ব্যাপার অবহেলা করেন এবং অধিকাংশ ক্ষেত্রে গুরুতর অবস্থায় পৌঁছলে তখন তেমন কিছু করার থাকে না। আর অনেক পরিবার ছেলে শিশু ও মেয়ে শিশুদের মধ্যে জেন্ডার-অনুযায়ী আচরণ প্রত্যাশা করে, যেমন ছেলেরা একটু চঞ্চল হবে উশৃঙ্খল হবে কিন্তু মেয়েরা শান্ত লাজুক হবে এইরকম। ছেলেদের ক্ষেত্রে অটিজম বেশি সনাক্তের একটি কারণ এটি-ও। ছেলে শিশুর অস্বাভাবিকতা অভিভাবকদের দ্রুত চোখে পড়ে, মেয়েদের নয়। 

উপরে যে জেনেটিক, নিউরোবায়োলজিক্যাল কারণগুলো বললাম তার পেছনে কিন্তু ব্যক্তির পারিবারিক সামাজিক পরিবেশ প্রভাব রাখে। দরিদ্র বৈষম্য ভরা পরিবেশে বড় হলে কিংবা সেসব স্থানে যথেষ্ট শিক্ষা ও চিকিৎসা ব্যবস্থা নেই সেখানকার নারী-পুরুষদের স্বাস্থা (মানসিক ও শারীরিক) ভঙ্গুর হয়, ফলে প্রজন্মান্তরে এগুলো শিশুদের মাঝে-ও ছড়ায়। তাই প্রয়োজন সচেতনতা ও মানসিক স্বাস্থ্য সম্পর্কে শারীরিক স্বাস্থের মতো জোর দেয়া।

আরেকটা ব্যাপার হচ্ছে অতিরিক্ত বুদ্ধিমান নারী-পুরুষদের (দুজনেই অতিরিক্ত বুদ্ধিমান
হলে, বিশেষত অটিস্টিক ছেলে শিশুদের বাবা১২) সন্তানের মাঝে অটিজম বেশি হয়ে থাকে১৩ (এটার বিবর্তনীয় ব্যাখ্যা হচ্ছে যে অটিজম হচ্ছে বুদ্ধিমত্তার সর্বোচ্চ বা উৎকর্ষতা বিপথে যাওয়া)আবার সন্তান জন্মদানের সময়ে বাবা মার বয়েস কতো তা-ও প্রভাব রাখে, বেশি বয়েস হলে পুরুষদের শুক্রাণুর মান ও নারীদের হরমোন ও গর্ভধারণ ও প্রসবজনিত জটিলতা-ও প্রভাব রাখতে পারে বলে মনে করা হয়১৪এখানে একটি ব্যাপার আমি জোর দিয়ে বলতে চাই, বাবা-মা অতিরিক্ত বুদ্ধিমান হলে কিংবা বেশি বয়েসের হলেই যে শিশুর অটিজম হবে এমন কোনো পাথরে-খোদাই করা নিশ্চয়তা নেয়, বরং এইসব ফ্যাক্টরগুলো প্রভাব রাখে বা ঝুঁকি বাড়ায়।

মনোবিজ্ঞানে একটি ডিসঅর্ডার কীভাবে সৃষ্টি হয় বা আবির্ভূত হয় সেটি ব্যাখ্যা করার জন্য অন্যতম থিউরি হচ্ছে পীড়া-পূর্বঝুঁকি অনুজ্ঞা (stress-diathesis hypothesis)এই তত্ত্ব মতে একজনের পূর্ব কিছু ঝুঁকি থাকে এবং সামাজিক কিংবা অন্যান্য পীড়া বা কারণে এই ঝুঁকি বেড়ে গিয়ে ডিসঅর্ডার সৃষ্টি হয়। যেমন, মনে করুন একটি ভ্রুণের জেনেটিক ঝুঁকি আছে (এক্স ক্রোমোজোম ভঙ্গুরতা), এবং গর্ভকালীন সময়ে সেই ভ্রুণের মা অ্যালকোহল কিংবা অন্য কোনো মাদক গ্রহণ করলো কিংবা কোনো জটিলতায় ভুগলো, ফলে শিশুটি স্বাভাবিকের তুলনায় অনেক গুণ বেশি ঝুঁকি নিয়ে (অটিজমের) জন্ম নিলো। জন্মের পরে বাবা-মা অথবা অভিভাবকের অজ্ঞতা বা অবহেলার কারণে সঠিক গুরুতর সময়ে ইন্টারভিন করা গেলো না, ফলে এই অতিরিক্ত ঝুঁকি ও পীড়ার কারণে শিশুটি পুরো অটিজমের লক্ষণ প্রকাশ করতে লাগলো, এবং এতো বেশি পরে চিকিৎসার জন্য যাওয়া হলো যে তেমন কিছু করার নেই।

শুধু ঝুঁকি থাকলেই যে রোগ হবে এমন নয়। পরিবেশ ও সমাজের অন্যান্য কারণের প্রভাবের উপর নির্ভর করে এই ঝুঁকি বাড়ে এবং সীমা অতিক্রম করলে ডিসঅর্ডারের লক্ষণ প্রকাশিত হয়।


মোটের কথা হচ্ছে অটিজম একটি কারণে ঘটে না
, ফলে চিকিৎসা পদ্ধতি-ও ধরো-তক্তা-মারো-পেরেক টাইপের এক রকম নয় আপনার শিশুর যদি অটিস্টিক লক্ষণ আছে বলে মনে করেন তবে বিশেষজ্ঞদের সাথে যোগাযোগ করুন। অধিকাংশ ক্ষেত্রে একজন শিশু বা ব্যক্তির রিস্ক ফ্যাক্টর ও প্রোটেকটিভ ফ্যাক্টর, জেনেটিক-নিউরোসাইকোলজিক্যাল কারণ ও অবস্থা পূর্ণভাবে বিশ্লেষণ করে কেইস-বাই-কেইস চিকিৎসা হয়। এই বিষয়ে পরে আরো বিস্তারিত লিখবো ধারাবাহিকভাবে

অটিস্টিক ছেলেমেয়েদের অভিভাবকদের জন্য বাঙলায় নুশেরা তাজরীনের একটি চমৎকার বই আছে, ২০১১ সালে তাম্রলিপি প্রকাশনী থেকে প্রকাশিত, নাম হচ্ছে "শিশুর অটিজম তথ্য ও ব্যবহারিক সহায়িতা"। এই বিষয়টি অটিস্টিক শিশুর অভিভাবকের দৃষ্টিকোণ থেকে লেখা, বৈজ্ঞানিক দৃষ্টিকোণ থেকে নয়। এটি ব্যবহারিক সহায়িতা।

আপনার শিশুর মাঝে অস্বাভাবিক আচরণ লক্ষ্য করলে সাইকোলজিস্ট কিংবা নিউরোসাইকোলজিস্টদের পরামর্শ নিন। ডাক্তারদের মাঝে যেমন বিশেষজ্ঞের ভাগ আছে তেমনি সাইকোলজিস্টদের মাঝে-ও ভাগ আছে, একেকজন একেক ধরণের ডিসঅর্ডারে দক্ষ। এমন কারো কাছে যান যার অটিস্টিক রোগীদের সাথে কাজ করার অভিজ্ঞতা আছে।

অটিজমের জন্য জৈবিক চিকিৎসা-ও (যেমন- ওষুধ সেবন) আছে। যেমন- এন্টিসাইকোটিক মেডিকেশন haloperidol এবং risperidone ব্যবহৃত হয় শিশুর মারাত্মক বিধ্বংসী আচরণ (হাত-পা কেটে নিজের ক্ষতি করা, অন্যের প্রতি আক্রমণাত্মক আচরণ) কমানোর জন্য ব্যবহৃত হয়। তবে এইসব ড্রাগে অনেক পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া থাকে যে অনেক সময় হিতে-বিপরীত হতে পারে। এছাড়া, কোনো ড্রাগই আচরণে আমূল পরিবর্তন আনে না, শুধুমাত্র মাত্রা কমায়। অনেক ক্ষেত্রে সেরোটোনিন রি-আপটেক ব্লকার (serotonin reuptake blocker) ধরণের এন্টিড্রিপেরেসান্ট ব্যবহার করা হয় শিশুর পুনঃপুনঃ আচরণ (বারবার একই জিনিস করা) কমানোর জন্য। এছাড়া, রিটালিন (Ritalin), যা মূলত এডিএসডি রোগের চিকিৎসায় ব্যবহৃত হয় সেটিও মনোযোগহীনতা ও উচ্চ মাত্রা কার্যকলাপ কমানোর ক্ষেত্রে ফল দেয়। তবে এখন পর্যন্ত এমন কোনো ওষুধ আবিষ্কৃত হয় নি যেটি শিশুর সামাজিক আচরণকে উন্নত করবে, যেটি কিনা অটিস্টিক শিশুদের সবচেয়ে বড় সমস্যা।

কী ধরণের চিকিৎসা হবে তা নির্ভর করে সর্ব-পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে (রোগীর অবস্থা, পরিবেশের অবস্থা ইত্যাদি) প্রাপ্ত ফলাফলের উপর। সাইকোথেরাপি করলে শিশু অনেক কিছু শিখতে পারে যা পরবর্তীকালে অন্যান্য ক্ষেত্রে-ও কাজে লাগতে পারে।

অটিজম সম্পর্কে একটি ভুল ধারণা আছে যে ভ্যাকসিনের সাথে এর সম্পর্ক আছে, এটি ডাহা ভুল কথা। ভ্যাকসিন কখনোই অটিজম সৃষ্টি করে না, কিংবা অটিজমের মাত্রাকে বৃদ্ধি করে না১৫। ভ্যাকসিনের ফলে বরং শিশুর শারীরিক রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ে।

সব কথা শেষ কথা হচ্ছে, বেশি বেশি জানুন, সচেতন হোন, এবং কোনো জ্ঞানই শেষ নয়। কোনো কিছুতে সন্দেহ হলে যাচাই করুন। এবং মনে রাখুন যে স্বাস্থ্য দুই প্রকার- মানসিক ও শারীরিক; এবং দুই ধরণের স্বাস্থ্যই পরষ্পরের সাথে জড়িত। আপনার আমার সচেতনতাই নিজেদের ও পরবর্তীদের প্রজন্মের জীবনকে শুভ করে তুলবে।

(দোহাই: বলার অপেক্ষা রাখে না লেখাটি অসমাপ্ত। পরবর্তীতে এই বিষয়ে আরো বিস্তারিতভাবে লিখবো। আপাতত উল্লেখিত লেখাটির ভুল ধরিয়ে দিয়ে সচেতনতা সৃষ্টির জন্য এই লেখা প্রাথমিকভাবে লেখা।)

তথ্যসূত্র
১। Vos, T., Barber, R. M., Bell, B., Bertozzi-Villa, A., Biryukov, S., Bolliger, I., ... & Duan, L. (2015). Global, regional, and national incidence, prevalence, and years lived with disability for 301 acute and chronic diseases and injuries in 188 countries, 1990-2013: a systematic analysis for the Global Burden of Disease Study 2013. The Lancet, 386(9995), 743.
২। Skuse, D. H. (2000). Imprinting, the X-chromosome, and the male brain: explaining sex differences in the liability to autism. Pediatric Research, 47(1), 9-9.
৩। Jamain, S., Quach, H., Betancur, C., Råstam, M., Colineaux, C., Gillberg, I. C., ... & Bourgeron, T. (2003). Mutations of the X-linked genes encoding neuroligins NLGN3 and NLGN4 are associated with autism. Nature genetics, 34(1), 27-29.
৪। Alarcón, M., Abrahams, B. S., Stone, J. L., Duvall, J. A., Perederiy, J. V., Bomar, J. M., ... & Nelson, S. F. (2008). Linkage, association, and gene-expression analyses identify CNTNAP2 as an autism-susceptibility gene. The American Journal of Human Genetics, 82(1), 150-159.
৫। Kelleher, R. J., & Bear, M. F. (2008). The autistic neuron: troubled translation?. Cell, 135(3), 401-406.
৬। Schanen, N. C. (2006). Epigenetics of autism spectrum disorders. Human molecular genetics, 15(suppl 2), R138-R150.
৭। Fein, D. (2011). The neuropsychology of autism. Oxford University Press.
৮। Rogers, S. J. (1998). Neuropsychology of autism in young children and its implications for early intervention. Developmental Disabilities Research Reviews, 4(2), 104-112.
৯। Courchesne, E. (2004). Brain development in autism: early overgrowth followed by premature arrest of growth. Mental retardation and developmental disabilities research reviews, 10(2), 106-111.
১০। NicklJockschat, T., Habel, U., Maria Michel, T., Manning, J., Laird, A. R., Fox, P. T., ... & Eickhoff, S. B. (2012). Brain structure anomalies in autism spectrum disordera metaanalysis of VBM studies using anatomic likelihood estimation. Human brain mapping, 33(6), 1470-1489.
১১। Boraston, Z., & Blakemore, S. J. (2007). The application of eyetracking technology in the study of autism. The Journal of physiology, 581(3), 893-898.
১২। Happé, F., Frith, U., & Briskman, J. (2001). Exploring the cognitive phenotype of autism: weak central coherence in parents and siblings of children with autism: I. Experimental tests. The Journal of Child Psychology and Psychiatry and Allied Disciplines, 42(3), 299-307.
১৩। Crespi, B. J. (2016). Autism As a Disorder of High Intelligence. Frontiers in Neuroscience, 10.
১৪। Durkin, M. S., Maenner, M. J., Newschaffer, C. J., Lee, L. C., Cunniff, C. M., Daniels, J. L., ... & Schieve, L. A. (2008). Advanced parental age and the risk of autism spectrum disorder. American Journal of Epidemiology, 168(11), 1268-1276.

১৫। Stehr-Green, P., Tull, P., Stellfeld, M., Mortenson, P. B., & Simpson, D. (2003). Autism and thimerosal-containing vaccines: lack of consistent evidence for an association. American journal of preventive medicine, 25(2), 101-106.

কী নিয়ে মাতামাতি...

13 Reasons Why (1) ADHD (1) Alzheimer's disease (1) Antibiotic Resistance (1) Anxiety (1) Autism (1) Brexit (1) Brief Answers to the Big Questions (10) Britain (1) Bruce Peninsula (1) Cades Cove Scenic Drive (1) Canada (2) Clingsman Dome (1) District 9 (1) Dopamine (1) Dyer's Bay (1) Federico Garcia Lorca (1) Fierté Montréal (2) Gaspé & Percé Rock (1) Global Warming (2) Great Smoky Mountains (2) Heatwave (1) Hemianopia (1) infographics (1) Instagram (104) International Balloon Festival (1) Interstate 77 (1) Lift (1) Links (1) Maple syrup boiling down (1) Maple syrup harvesting (1) Marconi Union (1) Mike Krath (1) Montmorency Falls (2) Montreal International Jazz Festival (1) Montreal Pride Parade (2) Mother Teresa (1) Movies (1) Music (2) Netflix (1) Niagara Falls (3) Nickelback (1) Nirvana (1) North Carolina (1) nutella (1) Photography (2) Photos (104) Poets of the Fall (2) Psychology (1) Rain storm in Montreal (1) Rape (1) Reading List (1) Saint-Remi (1) Samuel de Champlain Bridge (1) Sandra Crook (1) Schizophrenia (1) Sci-Fi (1) Sci-Hub (1) Shortest Sci-Fi (1) Smoky Mountains (1) Stephen Hawking (15) Sunshine 2007 (1) Tennessee (1) The Beatles (1) The Danish Girl (1) The Grand Design (8) The Handsome Family (1) Tobermory (1) Toronto (2) Transexualism (1) True Detective (1) Tyrannosaurus rex (1) Wallingford Back Mine – Mulgrave et Derry (1) West Island (1) Womenchapter (1) অটিজম (3) অটোয়া (1) অণুগল্প (8) অনুবাদ (19) অনূদিত গান (1) অভিগীতি (12) অভিলিপি (9) অর্থনীতি (2) অ্যালকোহল (1) আইন ও বিচারব্যবস্থা (1) আইসিস (2) আচরণগত স্নায়ুবিজ্ঞান (1) আত্মহত্যা (2) আলঝেইমারের রোগ (3) আলোকচিত্র (6) আলোকবাজি (9) ইচ্ছেকথা (3) ইন্সটাগ্রাম (104) উইমেন-চ্যাপ্টার (1) উদ্বেগ (1) উবার (1) একুশে বইমেলা (1) এন্টিবায়োটিক প্রতিরোধ (1) এম-তত্ত্ব (5) কবিতা (95) কম্পিউটার বিজ্ঞান (1) করোনাভাইরাস (6) কর্কটরোগ (1) কলাম (5) কানাডা (4) কাব্যালোচনা (2) কাসেম বিন আবুবাকার (1) কিশোরতোষ (1) কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (1) কৃষ্ণগহ্বর (1) কোভিড-১৯ (8) কোলেস্টেরল (1) ক্যান্সার (2) ক্রসফায়ার (1) ক্লোনিং (1) খাদ্যব্যবস্থা (1) গণতন্ত্র (1) গবেষণা (1) গবেষণাপত্র (1) গর্ভপাত (1) গল্প (8) গাঁজা (1) গান (18) গুজব (1) গ্যাব্রিয়েলা মিস্ট্রাল (1) চলচ্চিত্র (4) ছড়া (5) ছবি (104) ছোটগল্প (6) জঙ্গিবাদ (1) জনস্বাস্থ্য (2) জিকা ভাইরাস (1) জীববিজ্ঞান (1) জীবাণু (1) ট্রান্সসেক্সুয়াল (1) ট্রান্সসেক্সুয়ালিজম (1) ডাইনোসর (1) ডাউনলোড (1) ডোপামিন (1) তাপমাত্রা (1) তিল-গপ্পো (17) তুষার দত্ত (2) তেজস্ক্রিয়তা চিকিৎসা (1) দূরবীন (2) দৃষ্টিশক্তি (1) ধর্ম (3) ধর্ষণ (2) নায়াগ্রা ফলস জলপ্রপাত (1) নারী (3) নারী স্বাধীনতা (1) নাস্তিকতা (1) নুটেলা (1) নৈতিকতা (1) পরিবেশ (1) পাঁচমিশালী (1) পাঠসূচি (1) পাম তেল (1) পাহাড় (1) পুস্তক (1) পেডোফিলিয়া (1) প্রকৃতি (1) প্রবন্ধ (2) প্রবাস (2) প্রাইমেট (1) ফটোগ্রাফী (1) ফেসবুক (1) ফ্রান্স (1) বই (2) বড় প্রশ্নের সংক্ষিপ্ত উত্তর (10) বয়ঃসন্ধি (1) বর্ণবাদ (1) বাঙলাদেশ (18) বাবা (1) বাংলাদেশ (1) বিজ্ঞপ্তি (1) বিজ্ঞান (14) বিটলস (1) বিষণ্নতা (3) বুরকিনি (1) বৈজ্ঞানিক কল্পকাহিনি (8) বৈশ্বিক উষ্ণতা (1) ব্যক্তিত্ব (1) ব্যথা (1) ভাইটামিন ডি (1) ভাইরাস (1) ভালোবাসা (1) ভুয়া খবর (1) ভেন্টিলেটর (1) ভ্রমণ (3) মনস্তত্ত্ব (1) মনোবিজ্ঞান (19) মন্ট্রিয়াল (1) মন্ট্রিয়াল আন্তর্জাতিক জ্যাজ উৎসব (2) মস্তিষ্ক ক্যান্সার (1) মহিমান্বিত নকশা (3) মাদক (1) মাদকাসত্তি (2) মাদার তেরেসা (1) মানসিক স্বাস্থ্য (5) মুক্তগদ্য (3) মুক্তচিন্তা (4) মুক্তিযুদ্ধ (3) মৌলবাদ (1) যাপিত জীবন (2) যুগান্তর পত্রিকা (1) যৌনতা (1) রাজনীতি (1) রামপাল বিদ্যুৎ প্রকল্প (3) রূপান্তরকাম (1) রৌদ্রস্নান (1) লিওনার্ড ম্লোডিনো (5) লিংক (2) লিঙ্গরূপান্তর (1) লিঙ্গরূপান্তরকারী (1) লিথিয়াম (1) লিফট (1) শিক্ষাব্যবস্থা (1) শিশুতোষ (3) সংগীত (3) সন্ত্রাসবাদ (1) সংবাদমাধ্যম (1) সময়ভ্রমণ (1) সমালোচনা (1) সর্দিগর্মি (1) সানশাইন (1) সামাজিক দূরত্ব (1) সাম্প্রতিক দেখা চলচ্চিত্র (1) সার্স-কোভ-২ ভাইরাস (4) সাহিত্য (4) স্কিৎসোফ্রেনিয়া (1) স্টিফেন হকিং (16) স্ট্রোক (1) স্নায়ুবিজ্ঞান (12) স্নায়ুবিষ (1) স্বাস্থ্যসেবা (1) হলুদ (1)
রোদের অসুখ © 2008 Por *Templates para Você*